সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

মুসলমানদের মাঝে বহুল প্রচলিত দুইটি ভ্রান্ত বিশ্বাস

মুসলমানদের মাঝে বহুল প্রচলিত দুইটি ভ্রান্ত বিশ্বাসঃ
১. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান।
২. আল্লাহ নিরাকার।
________________________
হিন্দুরা বিশ্বাস করে তাদের সৃষ্টিকর্তা বা ভগবান ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান। অর্থাৎ তাদের আক্বীদাহ হচ্ছে তাদের সৃষ্টিকর্তা ডানে-বামে, আকাশে-বাতাসে, এই পৃথিবীর ভেতরে ও বাইরে, গাছ, পাথর, মানুষ, সবকিছুর মাঝেই অবস্থান করছেন। এ কারণে তারা প্রায় সবকিছুর পূজা করে থাকে, কারণ তাদের বিশ্বাস হচ্ছে যা কিছুকেই পূজা করা হোক না কেনো, তাতে আসলে ভগবান ঈশ্বরেরই উপাসনা করা করা হয়। কারণ, ঈশ্বর যে সবকিছুর মাঝেই বিরাজমান। এই সৃষ্টিজগত হচ্ছে আল্লাহর অস্তিত্ব বা ছায়া। এই আকিদাহ বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে ইংরেজীতে pantheism আর বাংলায় সর্বেশ্বরবাদ বলা হয়। এটা শিরকে আকবার বা সবচাইতে বড় শিরক। এমনকি এটা ফিরাউনের শিরকের চাইতে জঘন্য, যেই ফিরাউন নিজেকে আল্লাহ দাবী করেছিলো (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)।
দুঃখজনক হচ্ছে ইসলামী আক্বীদাহ-বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে বর্তমানে কোটি কোটি মুসলমান আছে যারা হিন্দুদের মতোই আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, এই জঘন্য বিশ্বাসের উপরেই মৃত্যুবরণ করছে, আল্লাহু মুস্তাআন!
আচ্ছা আপনারাই বলুন, আল্লাহ যদি সত্যিই সর্বত্র বিরাজমান হতেন, তাহলে মিরাজের রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সাত আসমানের উর্ধে ডেকে নিয়ে গেলেন কেনো? এই একটা মাত্র বিষয় যদি আপনারা একবার ভেবে দেখেন, কোন বিবেকমান মানুষ কোনদিন এই কথা বলবেনা যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। বরং, এই ঘটনা থেকে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশে আজিমের উর্ধে বিরাজমান।  
মুসলমানদের মাঝে আরেকটা ভ্রান্ত বিশ্বাস হচ্ছেঃ
আল্লাহ নিরাকার।
আচ্ছা মুসলমানদেরকে এই কথা কে শিক্ষা দিয়েছে যে, আল্লাহ নিরাকার? ক্বুরানুল কারীমের কোন সুরার কত নাম্বার আয়াতে আছে এই কথা? কোন হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ নিরাকার?
আল্লাহ যদি নিরাকারই হবেন, তাহলে কেয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা কিসের দিকে তাকিয়ে থাকবে, যা ক্বুরানুল কারীমে উল্লেখ করা হয়েছে?
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
২২. সেদিন (কেয়ামতের দিন) অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে।
২৩. তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
সুরা আল-ক্বিয়ামাহঃ ২২-২৩
আল্লাহ যদি নিরাকারই হবেন, তাহলে জান্নাতীরা কিসের দিকে তাকিয়ে থাকবে, যা সহীহ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে?
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্নিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোন! নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক সেইভাবে স্পষ্ট দেখতে পারবে, যেমন স্পষ্ট তোমরা পূর্ণিমান এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের কষ্টের সম্মুখহীন হবে না।
সহীহ বুখারীঃ ৫৫৪, সহিহ মুসলিমঃ ৬৩৩
সর্বশেষঃ ক্বুরানুল কারীমের সাতটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন, তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। আমি আয়াত নাম্বারগুলো উল্লেখ করছি, যাতে করে আল্লাহ সম্পর্ক শয়তান আপনাদেরকে গোমরাহ করতে না পারে।
১. আল-আরাফঃ ৫৪, ২. ইউনুসঃ ৩, ৩. আর-রাদঃ ২, ৪. ত্বোয়া-হাঃ ৫, ৫. আল-ফুরকানঃ ৫৯, ৬. আস-সাজদাহঃ ৪ ৭. আল-হাদীদঃ ৪।
আর আল্লাহ তাআলার আকার আছে, কিন্তু আমরা জানিনা তা কেমন। আল্লাহ সম্পর্কে কল্পনা করা বা তাঁর সাথে কোন কিছুর উপমা দেওয়া শিরক, একমাত্র জান্নাতে গেলেই দেখা সম্ভব হবে আল্লাহ তাআলাকে দেখা। আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতকে উসীলা করে আমাদের, আমাদের পরিবারের সবাইকে জান্নাতে তাঁর দীদার দিয়ে ধন্য করুন, আমিন।   
________________________

*আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে তাওহীদের এই বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দিন। আপনার দ্বারা একজন মানুষও যদি শিরকি আক্বীদাহ থেকে তোওবাহ করে ফিরে আসে, কেয়ামতের দিন সেটা আপনার নাজাতের জন্যে ওসীলাহ হবে ইন শা আল্লাহ।

‘কিতাবুত তাওহীদ’ প্রথম অধ্যায়ঃ তাওহীদ

দ্বীন ইসলামের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাওহীদ সম্পর্কে জানুন
__________________________
গ্রন্থঃ কিতাবুত তাওহীদ
প্রথম অধ্যায়ঃ তাওহীদ
লেখকঃ শায়খুল ইসলাম, ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রহঃ)
__________________________
১. আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

আমি জিন এবং মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।
সুরা যারিয়াতঃ ৫৬

২. আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করেছেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ (النحل: ৩৬)

আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসুল পাঠিয়েছি [তাঁদের মাধ্যমে মানুষদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছি যে] তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, আর তাগুতকে (আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাসনা করা হয় তাদেরকে) বর্জন করো।
সুরা আন-নাহলঃ ৩৬

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র এরশাদ করেছেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا (الإسراء: ২৩)

৩. তোমার রব (মালিক, পালনকর্তা) এই নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া তোমরা আর কারো ইবাদত করো না। আর মাতা-পিতার সাথে উত্তম আচরণ করো।
সুরা বনী ইসরাঈলঃ ২৩

৪. সুরা নিসাতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا (النساء: ৩৬)

তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।
সুরা নিসাঃ ৩৬

৫. সুরা আনআমে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا (الأنعام: ১৫১)

হে মুহাম্মদ বলো! [হে আহলে কিতাব] তোমরা এসো তোমাদের রব তোমাদের জন্য যা হারাম করে দিয়েছেন তা তোমাদেরকে পড়ে শুনাই। আর তা হচ্ছে এই যে, তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।
সুরা আনআমঃ ১৫১

৬. ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন,

من أراد ان ينظر إلى وصية محمد صلى الله عليه وسلم التى عليها خاتمه فليقرأ قوله تعالى قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا….. وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا﴿১৫৩

যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মোহরাঙ্কিত ওয়াসীয়ত দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলার এই বাণী পড়ে নেয়,
হে মুহাম্মদ বলো, তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা পড়ে শুনাই। আর তা হলো, তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না . . . . আর এটাই হচ্ছে আমার সরল, সোজা পথ

৭. সাহাবী মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন,
হে মুআয! তুমি কি জানো, বান্দার উপর আল্লাহর কি হক রয়েছে? আর আল্লাহর উপর বান্দার কি হক আছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে এই যে, তারা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হচ্ছে যারা তার সাথে কাউকে শরিক করবে না, তাহলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন না।
আমি (মুয়াজ রাঃ) বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি কি এ সুসংবাদ লোকদেরকে জানিয়ে দেব না? তিনি বললেন, তুমি তাদেরকে এ সুসংবাদ দিওনা, তাহলে তারা ইবাদত ছেড়ে দিয়ে [আল্লাহর উপর ভরসা করে] হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।
সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম।
__________________________
এ অধ্যায় থেকে নিুোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১. জ্বিন ও মানব জাতি সৃষ্টির রহস্য।
২. ইবাদতই হচ্ছে তাওহীদ। কারণ এটা নিয়েই বিবাদ।
৩. যার তাওহীদ ঠিক নেই, তার ইবাদতও ঠিক নেই। এ কথার মধ্যে
ولا أنتم عابدون ما أعبد এর অর্থ নিহিত আছে।
৪. রাসূল পাঠানোর অন্তর্নিহিত হিকমত বা রহস্য।
৫. সকল উম্মতই রিসালতের আওতাধীন ছিল।
৬. সমস্ত নবী ও রাসুলদের দ্বীন এক ও অভিন্ন।
৭. মূল কথা হচ্ছে, তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত ইবাদতের মর্যাদা অর্জন করা যায় না।
৮. আল্লাহর ইবাদত ব্যতীত আর যারই ইবাদত করা হয়, সেই তাগুত হিসেবে গণ্য।
৯. সালাফে-সালেহীনের কাছে সূরা আনআমের উল্লেখিত তিনটি মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতের (১৫১, ১৫২, ১৫৩) বিরাট মর্যাদার কথা জানা যায়। এতে দশটি বিষয়ের কথা রয়েছে। এর প্রথমটিই হচ্ছেঃ শিরক নিষিদ্ধ করণ।
১০. সূরা ইসরাঈল্কে কতগুলো মুহকাম আয়াত রয়েছে। এবং তাতে আঠারোটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ বিষয়গুলোর সূচনা করেছেন তাঁর বাণী- لا تجعل مع الله إلها آخر فتقعد مذموما مخذولا এর মাধ্যমে, আর সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন তাঁর বাণী-
ولا تجعل مع الله إلها آخر فتلقى في جهنم ملوما مدحوراً
এর মাধ্যমে। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়টির সুমহান মর্যাদাকে উপলব্ধি করার জন্য তাঁর বাণী,
ذلك مما أوحى إليك ربك من الحكمة এর মাধ্যমে আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
১১. সূরা নিসার আল- হুকুকুল আশারা [বা দশটি হক] নামক আয়াতের কথা জানা গেলো। যার সূচনা হয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী,
واعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا
এর মাধ্যমে। যার অর্থ হচ্ছে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।
১২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অন্তিমকালের অসিয়তের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন।
১৩. আমাদের উপর আল্লাহ তাআলার হক সম্পর্কে জ্ঞানার্জন।
১৪. বান্দা যখন আল্লাহর হক আদায় করবে, তখন আল্লাহ তাআলার উপর বান্দার হক সম্পর্কে জ্ঞানার্জন।
১৫. অধিকাংশ সাহাবিই এই বিষয়টি (মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর হাদীসটি) জানতেন না।
১৬. কোন বিশেষ স্বার্থে ইলম (জ্ঞান) গোপন রাখার বৈধতা।
১৭. আনন্দদায়ক বিষয়ে কোন মুসলিমকে খোশখবর দেয়া মুস্তাহব (উত্তম)।
১৮. আল্লাহর অপরিসীম রহমতের উপর ভরসা করে আমল বাদ দেয়ার ভয়।
১৯. অজানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির الله ورسوله أعلم [অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন] বলা।
২০. কাউকে বাদ রেখে অন্য কাউকে জ্ঞান দানে বিশেষিত করার বৈধতা।
২১. একই গাধার পিঠে পিছনে আরোহণকারীর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দয়া ও নম্রতা প্রদর্শন।
২২. একই পশুর পিঠে একাধিক ব্যক্তি আরোহণের বৈধতা।
২৩. মুআয বিন জাবাল (রাঃ) এর মর্যাদা।
২৪. আলোচিত বিষয়টির মর্যাদা ও মহত্ত্ব।
__________________________

প্রথম অধ্যায় এখানেই সমাপ্ত। আশা করি চলবে, ইন শা আল্লাহ।

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৫

ক্বুরানের পাতা থেকে

উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
____________________________
২. এতদ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন।
৩. এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।
সুরা ত্বালাক্বঃ ২-৩। 
____________________________
নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর তোর (ইবলিস শয়তানেরা) কোন ক্ষমতা নেই, তবে যারা পথভ্রষ্টরা তারা ছাড়া, যারা তোকে অনুসরণ করবে।
সুরা হিজরঃ ৪২।
____________________________
৮. অনেক জনপদ তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রসূলগণের আদেশ অমান্য করেছিল, অতঃপর আমি তাদেরকে কঠোর হিসাবে ধৃত করেছিলাম এবং তাদেরকে ভীষণ শাস্তি দিয়েছিলাম।
৯. অতঃপর তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করল এবং তাদের কর্মের পরিণাম ক্ষতিই ছিল।
১০. আল্লাহ তাদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তত রেখেছেন অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, যারা ঈমান এনেছ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদের প্রতি উপদেশ নাযিল করেছেন।
সুরা ত্বালাক্বঃ ৮-১০। 
____________________________
২৭. জালেমরা সেইদিন নিজে নিজের দুইহাত দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের পথ অবলম্বন করতাম।
২৮. হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম!
২৯. আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। বিপদের সময় শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়।
৩০. রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে।
৩১. এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তাই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।
সুরা আল-ফুরক্বানঃ ২৭-৩১।
____________________________
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যেই (আগুনের শাস্তি দেওয়ার) জন্যে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতারা। সেই ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করেনা, এবং তাদেরকে যা করতে আদেশ করা হয়, তারা ঠিক তাই করে।
সুরা তাহরীমঃ ৬।
____________________________
আর যারা সর্বপ্রথম মুহাজির ও আনসারদের মাঝে যারা পুরাতন, এবং যারা তাদের (সর্বপ্রথম মুহাজির ও আনসারদেরকে) নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। আর তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন জান্নাত (বাগান), যার নিচ দিয়ে ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে তারাচিরকাল থাকবে। আর এটাই হল চূড়ান্ত সফলতা।
সুরা তাওবাহঃ ১০০।
____________________________
এবং আপনি পালনকর্তার ইবাদত করুন, যে পর্যন্ত আপনার কাছে ইয়াক্বীন (মৃত্যু) চলে আসে।
সুরা হিজরঃ ৯৯।

____________________________

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবী হওয়ার ঘটনা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবী হওয়ার ঘটনাঃ
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর শুরু হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মত উদ্ভাসিত হতো। তিনি হেরা গুহায় গিয়ে সেখানে বেশ কয়েক রাত ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য দ্রব্যও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এরপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে এরূপ খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে দিতেন। শেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওয়াহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।

সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললামঃ আমি তো পড়তে পারিনা। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারিনা। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারিনা। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চেপে ধরলেন যে, এবারেও এতে আমার  খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন,

১. পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন.
২. যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলাক্ব (জমাট রক্ত) থেকে।
৩. পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহান দয়ালু,
৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
সুরা আল-আলাক্ব, (৯৬ নাম্বার সুরার) ১ থেকে ৫ নাম্বার পর্যন্ত আয়াত।

এরপর তিনি তা নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ) এর কাছে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। আর বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, হে খাদীজাহ! আমার কী হল? এবং তাকে সমস্ত ঘটনা জানালেন। আর বললেনঃ আমি আমার জীবন সম্পর্কে আশঙ্কা বোধ করছি। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, কক্ষনো না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা, আপনি তো
- আত্মীয়তার বন্ধন জুড়ে রাখেন,
- সত্যকথা বলেন,
- অনাথ অক্ষমদের বোঝা বহন করেন,
- মেহমানদের মেহমানদারী করেন এবং
- হকের পথে আগত যাবতীয় বিপদে সাহায্য করেন।
অতপর খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে চললেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনু নাওফল এর কাছে এলেন। আর তিনি, খাজীদাহ (রাঃ)-এর চাচার পুত্র (চাচাত ভাই) এবং তার পিতার পক্ষ থেকে চাচাও ছিলেন। তিনি জাহিলীয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী কিতাব লিখতেন। তাই সে ইন্জীল আরবীতে অনুবাদ করতেন- যতখানি লেখা আল্লাহর মনযুর হত। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিহীন লোক। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! তোমার ভাতিজার কথা শুন। তখন ওরাকা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। তখন ওরাকা বললেন, এতো আল্লাহর সেই নামুস (দূত) যাঁকে মূসা (আঃ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! যদি সেদিন আমি জীবিত থাকতাম যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, হ্যাঁ তুমি যা নিয়ে এসেছ, এমন বস্তু নিয়ে কোনদিনই কেউ আসেনি যার সঙ্গে শত্রুতা করা হয়নি। যদি তোমার জীবনকাল আমাকে পায়, তাহলে আমি সর্বতোভাবে তোমাকে সাহায্য করব। এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন। [৩]

ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, فَالِقُ الإِصْبَاحِ অর্থ দিনের বেলায় সূর্যের আলো ও রাতের বেলায় চাঁদের আলো।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনীর অনুবাদ), পরিচ্ছদঃ ৯১/১ - রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওয়াহীর শুরু হয় ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। হাদীস নং- ৬৯৮২.

[আধুনিক প্রকাশনী অনুযায়ী হাদীস নং- ৬৪৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ র অনুবাদে ৬৫১১ নং হাদিস]