মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৬
সুরা মুযযাম্মিলের তেলাওয়াত ও তার সরল ভাবানুবাদ।
ক্বুরানুল কারীমের ২৯-তম পারার একটা
সুরা হচ্ছে সুরা মুযযাম্মিল। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম এর নবুওতী জীবনের একবারে শুরুর দিকে নাযিল হওয়া এই সুরাটি যখন অবতীর্ণ
হয়েছিলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম একটা চাদর গায়ে দিয়ে
শুয়ে ছিলেন। আল্লাহ তাঁর এই অবস্থার চিত্র তুলে ধরে তাকে “ইয়া
আইয়্যুহাল মুযযাম্মিল” অর্থাৎ, হে বস্ত্রাবৃত! বলে সম্বোধন
করেছিলেন। অর্থাৎ, এখন চাদর ছেড়ে দাও এবং রাতে সামান্য কিয়াম কর (তাহাজ্জুদ
নামাযের জন্যে জাগরণ কর)। বলা হয় যে, এই নির্দেশের ভিত্তিতেই তাহাজ্জুদের নামায
পড়া নবীর জন্য ফরয ছিল। [উৎসঃ তাফসীর ইবনে কাসীর]
মসজিদুল হারামের ইমাম আব্দুল্লাহ আওয়াদ
আল-জুহাইনির কন্ঠে বার বার শুনতে ইচ্ছা করে সুরা মুযযাম্মিলের এমন একটি তেলাওয়াত ও
তার সরল ভাবানুবাদ।
____________________
আ’উযু
বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম। বিসমিল্লাহির-রাহ’মানির
রাহীম।
(১) হে বস্ত্রাবৃত!
(২) আপনি রাত্রিতে দন্ডায়মান হন আর কিছু
অংশ বাদ দিয়ে;
(৩) অর্ধরাত্রি (তাহাজ্জুদ নামায পড়ুন)
অথবা তার চাইতে কিছু কম।
(৪) অথবা তার চাইতে বেশি, আর আপনি এই
কুরআন তেলাওয়াত করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে।
(৫) নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ
করেছি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) বাণী।
(৬) নিশ্চয় ইবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা
প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনে সহায়ক এবং ক্বুরান স্পষ্ট উচ্চারণের জন্যে অনুকূল।
(৭) নিশ্চয় দিনের সময় আপনার দীর্ঘ কর্ম
ব্যস্ততা রয়েছে।
(৮) সুতরাং, আপনি আপনার পালনকর্তার নাম
স্মরণ করুন, এবং একাগ্রচিত্তে আল্লাহর যিকিরে মগ্ন হোন।
(৯) তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের প্রভু। তিনি
ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। অতএব, আপনি তাঁকেই ‘ওয়াকিল’
(কর্ম বিধায়ক) হিসেবে গ্রহণ করুন।
(১০) আর কাফেররা যা বলে, তাঁর জন্যে
আপনি সবর করুন এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চলুন।
(১১)
ধন-সম্পদের মালিক, মিথ্যা আরোপকারীদেরকে আপনি আমার হাতে ছেড়ে দিন, এবং
তাদেরকে কিছুটা সময় ছাড় দিন।
(১২) নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও
অগ্নিকুন্ড।
(১৩) গলায় কাঁটার মতো আটকে যায় এমন
খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(১৪) যেদিন এই পৃথিবী পর্বতমালা
প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে চলমান বালুকার স্তুপের মতো।
(১৬) (হে মানুষেরা!) আমি তোমাদের কাছে
একজন রাসুলকে তোমাদের জন্যে সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করেছি, যেমন রাসুল পাঠিয়েছিলাম
ফেরাউনের কাছে।
(১৬) অতঃপর ফেরাউন সেই রাসুল, (মুসাকে)
অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিলাম।
(১৭) সুতরাং, (হে মানুষেরা!) তোমরা যদি
সেই দিনকে অস্বীকার কর, তাহলে কিভাবে সেইদিন নিজেদেরকে আত্মরক্ষা করবে, যেই দিনের
(ভয়াবহতা) ছোট্ট বালকদেরকে বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে?
(১৮) সেইদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে। তার
প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
(১৯) এটা হচ্ছে উপদেশ। অতএব, যার ইচ্ছা,
সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক।
(২০)
আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি ইবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন, রাত্রির প্রায় দু’তৃতীয়াংশ,
অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও
রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব, তিনি
তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ হয়,
ততটুকু তেলাওয়াত কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ
আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত
হবে। কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু তেলাওয়াত কর। তোমরা নামায
কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে ‘করজে হাসানাহ’
(উত্তম ঋণ) দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে
উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে
ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
দ্বীনের ব্যপারে ফতোয়া বা মতামত দেওয়া অনেক বড় এবং ভারী একটা বিষয়।
রোগের চিকিৎসা করা আর দশটা কাজের মতো না যে,
কিছু বই পত্র পড়ে, অনুমান বা অল্প জ্ঞান নিয়ে কেউ প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিবে, জনস্বার্থে
ফ্রী প্রেসক্রিপশান লিখে দিবে। একজন ডাক্তারের জন্যে অপরিহার্য হচ্ছেঃ কোন রোগের জন্য
কোন ঔষুধ, কোন ঔষুধ কখন দিতে হবে, সেই সময়, ডোজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ
রোগের চিকিৎসা করার সাথে মানুষের জীবন মরণ জড়িত, ডাক্তারের সামান্য ভুলে রোগীর অনেক
বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ঠিক তেমনি, দ্বীনের ব্যপারে ফতোয়া বা মতামত দেওয়া অনেক বড়
এবং ভারী একটা বিষয়। সেজন্যে শুধুমাত্র গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন সৎ ও যোগ্য আলেমরাই
দ্বীনি বিষয়ে মতামত (আরবীতে ফতোয়া) দিতে পারেন। একজন দ্বীন প্রচারকারীর জন্যে আবশ্যক
হচ্ছে কোন আলেমের কোন ফতোয়া সঠিক অথবা অধিক গ্রহণযোগ্য, কখন কোন শর্ত সাপেক্ষ, এই বিষয়গুলো
সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখা। আর নয়তো দেখা যাবে, সে আলেমদের বক্তব্য না জেনেই নিজেই নিজের
অল্প ইলম নিয়ে মনগড়া ফতোয়া দেওয়া শুরু করেছে। আবার কোন আলেমের, কোন ফতোয়া, কখন, কার
জন্যে প্রযোজ্য হবে সে সম্পর্কে জেনে মানুষের মাঝে তা প্রচার করা। প্রয়োজনীয় জ্ঞান
ও প্রজ্ঞা ব্যতিরেকেই দাওয়াতের প্রতিদানের লোভে কেউ যদি নিজ যোগ্যতার চাইতে বড় কথা
বলে বা দাবী করে, এর দ্বারা সে না কোন সওয়াব না, বরং ইলম প্রচার ও দাওয়াতকে ধ্বংস করলো।
এ বিষইয়ের নিয়ে আমি একটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি।
__________________________
(১) শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ
বলেন,
“যে কারো কোনো কথাকে আমরা পরীক্ষা করবো: কথাটা কী ঠিক না ভুল? যদি ঠিক হয় আমরা গ্রহণ
করব, যদি ভুল হয় বর্জন করব। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে গ্রহণ বা বর্জন নিয়ে বিতর্ক-কলহ
করা ভুল, বড় ধরণের ভুল। তাহলে দেখা যাবে একজন মানুষের সঠিক কথাকেও আমরা প্রত্যাখ্যান
করছি, আবার তার ভুল কথাগুলোকেও গ্রহণ করে নিচ্ছি। এটা বিপদজনক। কারণ, কেউ যখন কাউকে
অন্ধ অনুসরণ করে, তাহলে তার ভুল কথাগুলোকে সে অস্বীকার করবে অথবা এমনভাবে ব্যাখ্যা
করবে যেন সেটা ঠিক শোনায়। তেমনি অন্ধ বিরোধীতাকারী যার বিরোধীতা করবে, তার নামে এমন
কথা বলবে, যেটা সে বলেনি অথবা তার বক্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা করবে।”
__________________________
শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন,
“একজন মনপূজারী, বিদাতী যার আকীদা সঠিক নয়, তার কাছ থেকে দ্বীন তো পরের কথা, এমনকি
তার কাছে বাংলা বা ইংরেজী ভাষাও শেখাও ঠিক নয়।”
অনেকে বলে, “আমরা মানুষের (আকিদাহ ও মানহাজের ব্যপারে ভ্রষ্ট হয়েছে এমন ব্যক্তিদের) ভালোটা
নেই, আর খারাপটা বর্জন করি….” তাদের এই কথাকে প্রত্যাখ্যান করে শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস হা’ফিজাহুল্লাহ বলেনঃ “আপনি যদি কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ এটা বুঝতেই
পারেন, তাহলেতো আপনি নিজেই আলেম! আপনারতো আর বিদাতীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আসল
কথা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনা কোনটা ভালো (হক্ক বা সুন্নাহ) আর কোনটা মন্দ
(বাতিল বা বিদাত), একারণে একজন মনপূজারী বিদাতীর কথা শোনা যাবেনা।”
অনেকে নিজেদের ‘আকীদাহ’ ও ‘মানহাজ’ সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেনা, ভ্রান্ত লোকদের
কাছ থেকে ইলম নিয়ে কৌশলে আকীদাহ ও মানহাজগত ভুলের দিকে মানুষকে আহবান করে, এমন লোকদের
সম্পর্কে শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস হা’ফিজাহুল্লাহ আরো বলেন, “যার আকীদাহ ও মানহাজ স্পষ্ট নয়, এমন কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ইলম নেওয়া ঠিক নয়। এমন
লোকেরা ক্ষতিকর, এদের কারণে অনেক তরুণেরা গোমরাহ হচ্ছে।”
__________________________
এবার ১নং এবং ২নং ফতোয়ার দিকে লক্ষ্য করুন।
শায়খ ইবনে উসায়মিনের ১নং ফতোয়াকে যদি কেউ আম-খাস, নির্ভরযোগ্য সৎ ও যোগ্য দ্বাইয়ী আর
অল্প ইলম সম্পন্ন গোমরাহী প্রচারকারী, কিন্ত মিষ্টি ভাষায় ওয়াজ করে জনপ্রিয়, এমন দুই
দলের লোকের মাঝে কোন পার্থ্যক্য না করেই গ্রহণ করা হয় তাহলে, একশ্রেণীর মানুষ এখান
থেকে মাওলানা তারিক জামিল, নোমান আলী খান, জসীম উদ্দিন রাহমানীর মতো ব্যক্তিদের কথা
শোনার জন্যে সাধারণ মানুষকে আহবান করার বৈধতা দাঁড় করাতে পারবে। কিন্তু শায়খ উয়াসী
উল্লাহ আব্বাস হা’ফিজাহুল্লাহর ২নং ফতোয়ার দিকে লক্ষ্য করলে
এটা স্পষ্টঃ যার আকীদাহ ও মানহাজ স্পষ্ট নয়, এমন কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ইলম নেওয়া যাবেনা।
__________________________
এবার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এই দুই ফতোয়ার মধ্যে
কখন, কোনটা গ্রহণ করবো? কোন ফতোয়াটা কখন, কার জন্যে সঠিক, আর কখন কার জন্যে ভুলে বলে
বিবেচিত হবে?
__________________________
(১) আলেমদের ফতোয়া, বক্তব্য, দিক নির্দেশনা,
এগুলো ক্বুরানের আয়াতের মতো বা রাসুল (সাঃ) এর আদেশের মতো নয় যে, মানলে ঈমান থাকবে,
বা না মানলে ঈমান থাকবেনা। তবে জেনে বুঝে আলেমদের কথাকে যে অস্বীকার বা অবহেলা করে,
নিঃসন্দেহে সেই ব্যক্তি ভ্রষ্টতার মধ্যে পতিত হলো।
(২) আলেমরা বিশেষ কোন এক পরিস্থিতি বা ঘটনার
আলোকে একটা কথা বলেন, যা পবরর্তীতে অন্য সময় তাঁর নিজের বা অন্য আলেমদের দ্বারা সেই
কথার বিস্তারিত ব্যখ্যা জানা ও বুঝা যায়।
(৩) অনেক সময় আলেমরা কথা বলেন সঠিক, কিন্তু
শ্রোতারা তাদের বুঝ কম হওয়ার কারণে বুঝতে ভুল করেন।
(৪) আবার কখনো কোন একজন আলেমের একটা নির্দিষ্ট
ব্যপারে তাঁর অবস্থান ভুল বা দুর্বল হতে পারে, যা অন্য আলেমদের কাছ থেকে জানা ও বুঝা
যায়।
সুতরাং, আলেমদের কথা গ্রহণ ও বর্জন করার জন্যে
আমাদের অনেক কথা ও দিক চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। শুধুমাত্র নিজের ইলমের ভরসা না
করে আলেমদের বুঝ ও দিক নির্দেশনা জানার প্রয়োজন রয়েছে। নিজের ভালো লাগা একজন মাত্র
শায়খের উপরে নির্ভর না করে অন্য আলেমদের বক্তব্য জানা ও বুঝার প্রয়োজন রয়েছে।
__________________________
আমি আরেকটা উদাহরণ দিচ্ছি। সাইয়েদ কুতুব (আল্লাহ
তাকে মাফ করুন) এবং তার লিখা বইগুলোর ব্যপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিৎ? এ
ব্যপারে আপনি যদি শায়খ সালেহ আল-মুনাজ্জিদের ফতোয়া দেখেন, তাহলে দেখতে পারবেন, তিনি
সাইয়েদ কুতুবের প্রশংসা করে থাকেন এবং তার বই পড়ার জন্যে মানুষকে উৎসাহিত করে থাকেন।
অথচ, এ ব্যপারে আলেমদের কিছু বক্তব্য আমি তুলে ধরছিঃ
(১) শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ
বলেন, “যদি আল্লাহর ভয় না থাকতো, তাহলে আমরা সাইয়েদ
কুতুবকে তাকফীর করতাম।”
(২) শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন, “সাইয়েদ কুতুব একজন জাহেল, একারণে তাকে তাকফির
করা হবেনা।”
(৩) শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানি রাহিমাহুল্লাহ
বলেন, “সাইয়েদ কুতুব এর দ্বারা অনেকে ইসলামের দিকে
উৎসাহিত হয়েছে, কিন্তু সে কোন আলেম ছিলোনা। সে মানুষকে ইসলাম-এর দিকে আহবান করতো; কিন্তু
ক্বুরান, সুন্নাহ ও সালফে সালেহীনদে আদর্শ সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিলোনা। তাকে রদ্দ করা
‘ওয়াজিব’, তবে সেটা নম্রভাবে করতে হবে।”
(৪) শায়খ রাবী বিন হাদী আল-মাদখালী হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন, “সাইয়েদ কুতুব তাকফিরীদের মাথা।”
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে সাইয়েদ কুতুবের ব্যপারে
শায়খ মুনাজ্জিদের সাথে সালাফী আলেমদের ফতোয়ার পার্থক্য হয়েছে। যারা সাইয়েদ কুতুবের
দাওয়াতের আসল চেহারা এবং তার ব্যপারে আলেমদের বক্তব্য না জানেন, এমন ব্যক্তিরা কিন্তু
শায়খ মুনাজ্জিদের ফতোয়া এবং সেখানে উল্লেখিত শায়খ ইবনে উসায়মিনের কথার দ্বারা খুব সহজেই
ভুল মেসেজ নিতে পারেন।
__________________________
সুতরাং, আমি আমার দ্বীনি ভাইদেরকে আহবান জানাবো,
আপনারা “ফিকহ” বা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার জন্যে চেষ্টা করুন। প্রকৃত আলেমদের কথা শুনুন এবং
তাদের সংস্পর্শ থাকার চেষ্টা করুন। আর “দ্বাইয়ী” নামের অনেক জাহিল লোক, যারা ফিকহ থেকে বঞ্চিত বা যাদের জ্ঞানে ত্রুটি রয়েছে, তাদের
ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করুন, যদিওবা আমাদের মাঝে তারা সালাফী, সহীহ আকিদাহ নামে পরিচিত।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপকারী ইলম দান করুন, আমিন।
__________________________
সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৬
তাদাব্বুরে ক্বুরান
ক্বুরানের আয়াতগুলো বারাবার পড়া এবং
সেইগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা একজন মানুষের ঈমান বৃদ্ধি করে, তাকে হেদায়েতের
দিকে পরিচালিত করেঃ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বুরান নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করতেন, রাতে বেশি বেশি
ক্বুরান তেলাওয়াত করতেন। এমন কি এক রাতে তিনি তাহাজ্জুদ নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সারা
রাত ধরে ক্বুরানের একটি মাত্র আয়াতে কারীমা ফযর হওয়া পর্যন্ত তেলাওয়াত করেছেন। আর সেই
আয়াতটি হচ্ছে, “(হে আল্লাহ!) আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন,
তাহলে তারা তো আপনারই বান্দা। আর আপনি যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তাহলে আপনিই পরাক্রমশালী,
মহাবিজ্ঞ।” সুরা মায়িদাহঃ ১১৮।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বুরান নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতেন, আর তিনি এর সর্বোচ্চ মর্তবায়
পৌঁছেছিলেন। ইবনে হিব্বান আতা হতে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি (তাবেয়ী
বিদ্বান আতা রাহিমাহুল্লাহ) এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে উমার হযরত আয়িশাহ (রাঃ) এর কাছে গেলাম।
উবায়দুল্লাহ ইবনে উমার হযরত আয়িশাহ (রাঃ) কে বললেন, আপনি আমাদেরকে একটা আশ্চর্যজনক
হাদীস বলুন, যা আপনি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে করতে দেখেছেন। তখন মা আয়িশাহ (রাঃ) কেঁদে
দিলেন আর বললেন, “একরাতে রাসুল (সাঃ) নামাযে দাঁড়িয়ে বললেন,
“হে আয়িশাহ! আজ রাতে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি
আমার রব্বের ইবাদত করি। আয়িশাহ (রাঃ) তখন বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আপনার সংগ পছন্দ
করি, আর আপনি যা পছন্দ করেন আমি তা পছন্দ করি। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ওযু করলেন
এবং নামাযে দাঁড়ালেন। নামাযে দাঁড়িয়ে তিনি কাঁদতে লাগলেন। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাপড়
ভিজে গেলো। এমনকি কাঁদতে কাঁদতে রাসুল (সাঃ) এর সামনের মাটি ভিজে গেলো। এমন সময় হযরত
বেলাল (রাঃ) এসে ফযরের আযান দেওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। তিনি রাসুল (সাঃ)
কে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কাঁদছেন! অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বের
ও পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বললেন, আমি কি আল্লাহর
কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী বান্দা হওয়া পছন্দ করবোনা? আজ এই রাতে আমার উপর এক আয়াত নাযিল
করা হয়েছে, তার জন্যে ধ্বংস যে সেই আয়াত পাঠ করবে কিন্তু তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেনা।
আয়াতটি হচ্ছেঃ
“নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ
সম্পন্ন লোকদের জন্যে। (বোধ সম্পন্ন লোক হচ্ছে তো তারাই), যারা দাঁড়িয়ে, বসে, ও
শায়িত অবস্থায় (অর্থাৎ সব সময়েই) আল্লাহকে স্মরণ করে, আর আসমান ও জমিনের সৃষ্টির বিষয়ে
চিন্তা গবেষণা করে।” সুরা আলে-ইমরানঃ ১৯০-১৯১।
উৎসঃ ঈমানী দুর্বলতা, শায়খ সালেহ
আল-মুনাজ্জিদ।
বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৬
হৃদয় গলানো উপদেশ
হৃদয় গলানো উপদেশ
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম-এর মুবারকময় জবান থেকে মূল্যবান উপদেশ সম্বলিত কয়েকটি হাদীস
বর্ণনা করা হলো। নিন্ম বর্ণিত সবগুলো হাদীস ‘তাওহীদ প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ইমাম
ইবনে হাজার আসকালনি রাহিমাহুল্লাহর সংকলিত অমূল্য গ্রন্থ ‘তাহক্বীক বুলুগুল
মারাম’ থেকে সংগৃহীত, এবং সবগুলো হাদীস-ই সহীহ।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(১) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক
চিরঞ্জীব, দানশীল। তাঁর কোন বান্দা নিজের দুই হাত তুলে তাঁর নিকট দুয়া করলে তিনি বান্দাকে
শূণ্য হাত বা তাকে নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন। আবু দাউদঃ ১৪৮৮, তিরমিযীঃ
৩৫৫৬।
(২) আল্লাহ
যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের ইলম (জ্ঞান)
দান করেন। বুখারীঃ ৭১, মুসলিমঃ ১০৩৭।
(৩) যে
ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসগুলো থেকে বেঁচে থাকবে সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে।
বুখারীঃ ৫২, মুসলিমঃ ১৫৯৯।
(৪) তুমি
দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো, যেন
তুমি (অল্প সময়ের জন্যে) একজন প্রবাসী বা মুসাফির।
বুখারীঃ ৬৪১৬, তিরমিযীঃ ২৩৩৩।
(৫) নিশ্চয়ই
আল্লাহ ঐ বান্দাকে ভালোবাসেন, যে ব্যক্তি মুত্তাক্বী (আল্লাহর ভয়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে), মুখাপেক্ষাহীন (আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো
উপর নির্ভরশীল নয়), এবং আত্মগোপনকারী ( নিজের গুণ প্রকাশে অনিচ্ছুক)। মুসলিমঃ
২৯৬৫, আহমাদঃ ১৪৪৪।
(৬) পিতা-মাতার
সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি (লাভ হয়), আর তাঁদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর আসন্তুষ্টি রয়েছে। তিরমিযীঃ ১৯০০,ইবনে
মাজাহঃ ২০৮৯।
(৭) নেকী
হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার। আর পাপ হচ্ছে যা তোমরা
অন্তরে খটকা জাগায় এবং মানুষ সেই বিষয়টা জানুক, তুমি সেটা অপছন্দ কর।
মুসলিমঃ ২৫৫৩, আহমাদঃ ১৭১৭৯।
(৮) যে
ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে উঁচু
করে দেন। মুসলিমঃ ২৫৮৮, তিরমিযীঃ ২০২৯।
(৯) যে
ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের অসাক্ষাতে তার সম্মান হানিকর বস্তুকে প্রতিহত করবে,
আল্লাহ তার মুখমন্ডল হতে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনকে দূর করে দেবেন। তিরমিযীঃ
১৯৩১, আহমাদঃ ২৬৯৮৮।
(১০) যে ব্যক্তি কোন এক দল লোকের কথার দিকে কান লাগাল, অথচ সেই লোকগুলো এটা পছন্দ
করেনা যে, সেই ব্যক্তি তাদের কথা শুনুক, তাহলে কেয়ামতের দিন তার দুই কানে (গরম) সীসা
ঢেলে দেওয়া হবে। বুখারীঃ ২২২৫, মুসলিমঃ ২১১০।
(১১) যে ব্যক্তি নিজের মনে নিজেকে বড় বলে মনে করে, চলার সময় অহংকার করে চলে, তাহলে
সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকালে আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রাগান্বিত অবস্থায় থাকবেন। বুখারীঃ
৫৪৯, মুসলিমঃ ৬২৩।
(১২) চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। বুখারীঃ ৬০৫৬, আবু দাউদঃ ৪৮৯৯।*যে ব্যক্তি একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে
মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে অথবা দুইজনের মাঝে সম্পর্ক
নষ্ট করে, তাকে ‘চোগলখোর’ বলা হয়।
(১৩) তোমরা কৃপণতা হতে নিজেকে বাঁচাও, কারণ এটা আগের জাতিগুলোকে
ধ্বংস করছিলো। মুসলিমঃ ২৫৭৮, আহমাদঃ ১৪০৫২।
(১৪) একজন ঈমানদার ব্যক্তি কখনো লোকদেরকে তিরস্কারকারী,
অভিসম্পাত দানকারী, অশ্লীল ভাষী, নির্লজ্জ ইতর প্রকৃতির হতে পারেনা। তিরমিযীঃ ২০০।
(১৫) শয়তান বাম হাতে খায় এবং বাম হাতে পান করে। মুসলিমঃ ২০২০, তিরমিযীঃ ১৭৯৯।
(১৬) কিছু লোক আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে খরচ করে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত রয়েছে। বুখারীঃ
৩১১৮, তিরমিযীঃ ২৩৭৪।
(১৭) যখন তোমাদের কেউ যখন জুতা পড়ে, তখন সে যেন ডান পা দিয়ে
শুরু করে, আর যখন জুতা খুলবে তখন সে যেন বাম পা দিয়ে শুরু করে। যাতে পড়ার সময় দুই পায়ের
মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় আর খোলার সময় শেষ হয়। বুখারীঃ ৫৮৫৫, মুসলিমঃ ২০৯৭।
(১৮) প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এই বলে দুয়া করতেন, হে আল্লাহ তুমি আমাকে
যেই ইলম দান করছো, তার দ্বারা আমাকে উপকৃত করো। তুমি আমাকে সেই ইলম দান করো, যা আমাকে উপকৃত করবে। আর আমার ইলম আরো
বাড়িয়ে দাও। ইবনে মাজাহঃ ১/৪৭।
মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০১৬
মুজিজাহ
<3 <3 #মুজিজাহ <3 <3
মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত দূত এবং একজন সত্য নবী, এরপক্ষে অনেক ‘মুজিজাহ’ (অলৌকিক ঘটনা)
রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনে সবচাইতে বড় মুজিজাহ হচ্ছে ‘ক্বুরানুল কারীম’। আফসোসের বিষয়
হচ্ছে, আমরা অধিকাংশ মুসলমানেরাই জানিনা বা বুঝিনা, ক্বুরানের
মাঝে আশ্চর্যের বিষয় এমন কি আছে? কাফেরদেরকে বুঝাবো
তো পরের কথা! এমনকি আমরা ক্বুরান খুলে দেখতেও চাইনা,
এর মাঝে কি লিখা আছে। যাই হোক, ক্বুরান ছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
জীবনে আরো অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা তিনি তাঁর সংগী সাথী এবং কাফের মুশরেকদের
দেখিয়েছিলেন, যা নিঃসন্দেহেভাবে তাঁর নবুওতের প্রমান করে। আমি তাঁর মধ্যে থেকে কয়েকটা
উল্লেখ করছি।
(১) নবী
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিলোঃ
আনাস ইবন মালিক
(রাঃ) হতে বর্ণিত যে, “একবার মক্কাবাসী
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম-কে তার নবুওয়াতের নিদর্শন দেখানোর দাবী জানাল। তিনি তাদেরকে চাঁদ দুই
খণ্ড করে দেখালেন। এমনকি তারা সকলেই চাঁদের দুইখণ্ডের মাঝখানে হেরা পাহাড়কে দেখতে
পেল।”
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়, তখন আমরা নবী
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম
এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। তখন আমরা দেখলাম চাঁদের
একটি খণ্ড হেরা পাহাড়ের দিকে চলে গেল।” [সহীহ বুখারীঃ ৩৮৬৮-৭১]
এটা কেয়ামতের একটা লক্ষনের অন্তর্ভুক্ত, এনিয়ে
ক্বুরানুল কারীমেও বলা হয়েছে।
বিসমিল্লাহ-হির রাহমানির রাহীম। “কেয়ামত খুব কাছে চলে এসেছে এবং চাঁদ দুই ভাগ
হয়েছে।” [সুরা আল-ক্বামারঃ
১]
(২) মুসলমানদের প্রথম জিহাদ, ‘বদরের’ যুদ্ধে একজন
সাহাবীর চোখে তীর লেগে তাঁর একটা চোখ খুলে মাটিতে পড়ে যায়। তিনি
তাঁর সেই চোখ হাতে করে নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নিয়ে
আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরজন্যে
তাঁকে পরকালে পুরষ্কারের সুসংবাদ দিলেন। কিন্তু সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে তাঁর চোখ ফিরে যাওয়া
কিনা, একথা জানতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম খুলে যাওয়া সেই চোখটিকে সাহাবীর চোখে ধরে
লাগিয়ে দিলেন, আর সেই সাহাবী অমনি সেই চোখে আবার দেখতে শুরু করলেন। সুবহা’নাল্লাহ! শুধু তাইনা, তিনি তাঁর বাকি জীবনে সেই চোখ দিয়ে অন্য চোখের চাইতে বেশি দেখতেন! [আর রাহীখুল মাক্বতুম]
(৩) একবার এক জিহাদের লম্বা সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবাদের কাফেলাতে কোন পানি ছিলোনা। এদিকে তাঁরা তখন মরুভূমির মাঝখানে, কোন
জায়গা থেকে যে পানি সংগ্রহ করবেন, সেই সুযোগ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে একটা পানির
পাত্র আনতে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সেই পানির পাত্রে তাঁর মুবারক হাত রাখলেন, আর তাঁর আংগুলগুলো থেকে অঝোর ধারায় ঝরণা
বা পানির ট্যাপের মতো পানি বের হতে লাগলো। এইভাবে পানি সমস্ত কাফেলার লোকদের জন্যে
যথেষ্ঠ হয়ে গেলো।
(৪) নবী
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনাতে আসলেন তখন মসজিদে প্রথমে গাছের একটা কান্ড রাখা ছিলো, যার বিপরীতে
হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি জুমুয়াহর খুতবা দিতেন।
পরে যখন তাঁর জন্যে একটা মিম্বার বানিয়ে দেওয়া হলো, তিনি তাঁর উপরে দাঁড়িয়ে খুতবাহ
দিতেন, যার ফলে সেই গাছের কান্ডটাকে একপাশে সরিয়ে দেওয়া হলো। তিনি যখন প্রথমদিন
এইভাবে জুমুয়াহর খুতবাহ দিতে শুরু করলেন, হঠাৎ করে সমস্ত সাহাবারা শুনতে পেলেন,
সেই গাছের কান্ডটা নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য
থেকে বঞ্চিত হওয়ার দুঃখে ছোট বাচ্চার মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়টা বুঝতে পেরে মিম্বার থেকে নেমে এসে গাছটাকে আদর করে জড়িয়ে ধরলেন, এরপরে
সেই গাছটা কান্না থামালো। সুবহা’নাল্লাহি ওয়া বিহা’মদিহি! কি আশ্চর্যের বিষয়!! নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য
থেকে বঞ্চিত হওয়ার দুঃখে বিবেক বুদ্ধিহীন সামান্য একটা গাছও কান্না শুরু করে দিলো!
আর সেই নবীকে হারানোর বেদনায়, কাছ থেকে না দেখতে পাওয়ার বেদনায়, আমাদের কতটুকু দুঃখবোধ
করা উচিৎ?
আসুন আমরা সকলেই পড়িঃ
“আল্লাহুম্মা সাল্লি
আ’লা মুহা’ম্মাদিও ওয়া-আ’লা আলি মুহা’ম্মাদ, কামা
সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া-আ’লা আলি ইব্রাহীম,
ইন্নাকা হা’মীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ
ওয়া-আ’লা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারা-কতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া-আ’লা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
লেবেলসমূহ:
কুরআন ও তাফসীর,
সীরাহ জীবনী ইসলামী ইতিহাস
প্রশ্ন উত্তর
নিচের
প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানীঃ
(১) পানি ব্যবহার করা উত্তম,
,কিন্তু পানি থাকা সত্বেও কেউ যদি পেশাব পায়খানার পরে টিস্যু দ্বারা নাপাকী দূর
করে হবে কিনা? এটা অনেকেই করে।
উত্তরঃ নাপাকী দূর হয়ে গেলে জায়েজ
হবে।
(২) সুরা মুলকের ফযীলত পাঔয়ার
জন্যে কি রাতেই পড়তে হবে নাকি দিনে রাতে যেকোণ এক সময়ে পড়লে হবে?
উত্তরঃ দিনে রাতে যেকোন এক সময়েই
পড়লে হবে...শোবার সময় পড়া সুন্নত।
(৩) ইমাম ইবনে তাইমিয়া, শায়খ বিন
বাজ নারীদের ঋতু অবস্থায় কুরান পড়া বৈধ বলেছেন। কোন নারী এই ফতোয়া মানলে গুনাহ হবে?
উত্তরঃ হ্যা, প্রয়োজনে স্পর্শ না
করে নিজে পড়তে বা অন্যদেরকে পড়াতে পারবে।
(৪) নামাযে নারীদের পা ঢাকতেই
হবে? অনেক নারীই ঢাকেনা।
উত্তরঃ এনিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ
আছে। সন্দেহমুক্ত থাকার জন্যে ঢেকে নেওয়াই ভালো।
(৫) অনেক নারীর চুল লম্বা, উল্টা
দিক থেকে মাসাহ করতে গেলে এলোমেলো হয়ে যায়।উল্টা দিক থেকে মাসাহ করা ফরয নাকি, না
করলেও হবে?
উত্তরঃ চুলের উপরে হাত ফিরিয়ে
সামনের দিকে নিয়ে আসবে।
____________________________
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের
দেওয়াঃ
১. ফরজ নামাজে যেখানে যেখানে
ক্বিরাত জোরে পড়া হয়, মেয়েরা যখন ঘরে একা নামাজ পড়বে তখন কি মেয়েদেরকেও ফরজ
নামাজের ক্বিরাতগুলো শব্দ করে পড়তে হবে?
উত্তরঃ কোন গায়ের মাহরাম পুরুষ না
থাকলে পুরুষদের মতো জোরে কিরাত পড়ার জায়গায় নারীরাও জোরে পড়তে পারবে এবং নিজেদের
কিরাত নিজেরা বা ঘরে লোকেরা শুনতে পারে। অবশ্য গায়ের মাহরাম পুরুষ থাকলে চুপে চুপে
পড়তে হবে।
২. কোন অসুবিধাজনক পরিস্হিতিতে
যদি মেয়েরা একা নামাজ পড়ার সময় ফরজ নামাজের ক্বিরাত জোরে পড়তে না পারে তাহলে কোন
অসুবিধা হবে?
উত্তরঃ কোন অসুবিধা নেই, একাকী
জোরে কিরাত পড়া নারী বা পুরুষ কারো জন্যেই ফরয নয়।
৩. ক্বিরাত শব্দ করে পড়া ফরজ,
সুন্নাত নাকি ওয়াজিব?
উত্তরঃ একাকী হলে সুন্নত।
৪. মেয়েরা যখন বাসায় একা নামাজ পড়বে
তখন কি ইকামত দিবে?
উত্তরঃ হ্যা দিতে পারে, তবে দেওয়া
ফরয নয়।
৫. ইকামত দেয়া ফরজ, সুন্নাত নাকি
ওয়াজিব?
উত্তরঃ সুন্নত।
৬. ওয়াক্ত হয়ে যাবার পর কিন্তু
মসজিদে আযান দেয়ার আগেই যদি মেয়েরা ঘরে নামাজ পড়া শুরু করে তাহলে কি আযান দিয়ে
নামাজ শুরু করতে হবে?
উত্তরঃ ওয়াক্ত হয়ে গেলে ওয়াক্তের
প্রথম দিকে নামায পড়া বেশি সওয়াবের কাজ। আমাদের দেশের মসজিদে আযান দিতে অহেতুক
দেরী করে, যা সুন্নত সম্মত নয়। তাই নারীরা ফযর, জোহর, আসর ওয়াক্তের শুরুর দিকেই
পড়ে নেবে, আযান দিতে দেরী করলেও তারা পড়তে পারবে। তাদেরকে আযান দিতে হবেনা। অবশ্য
এশার নামায একটু দেরী রাতের এক তৃতীয়াংশ পড়ে পড়া ভালো।
৭. যদি করতে হয় তাহলে এই আযান
দেয়া ফরজ, সুন্নাত নাকি ওয়াজিব?
উত্তরঃ একটা এলাকায় একটা মসজিদে
আযান দিলে বাকী সবার জন্যে যথেষ্ঠ, এরপরে বাকি সবার জন্যে সুন্নত।
শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৬
#রাষ্ট্রধর্ম
#রাষ্ট্রধর্ম
একজন মুসলমান চাইবে প্রতিটা জায়গায় ইসলাম মেনে চলতে, আল্লাহ ও
তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদেশ ও
নিষেধ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে। সেটা ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক
জীবনে কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে হোক, একজন ঈমানদার সর্বদাই, সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর
প্রতি অনুগত থাকার জন্য অংগীকারাবদ্ধ। কখনো এমন হবেনা যে, কোন মুসলমান ইসলামের কিছু
বিষয় মানবে আর কিছু বিষয়কে অস্বীকার করবে। কেউ যদি বলে, আমি আল্লাহর এই আইন মানি
আর অমুক আইন মানিনা, বা বর্তমান যুগে এই আইন মানা সম্ভব না, এটা এক প্রকার কুফুরী,
যা মুনাফেকীর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী আইন মানা হয়না। সত্যি
কথা বলতে আমাদের দেশ ও আইন-আদালত ক্বুরান ও সুন্নাহ দ্বারা নয় বরং, ইংল্যান্ডের
খ্রীস্টানদের বানানো মানব রচিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। তারপরেও কোন একভাবে
নামমাত্র হলেও বাংলাদেশের সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম” একথাটি
লিখা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দেশের প্রায়
৮৫ ভাগ মানুষের পূর্ণ সমর্থনে বলবৎ ছিলো। কিন্তু কিছু মানুষ যারা ইসলাম পছন্দ করেনা, দেশের মানুষের অন্তর
থেকে ইসলামকে মুছে দিতে চায়, তারা চায়না বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকুক। তারা চায়, বাংলাদেশ যেনো রাশিয়ার মতো ‘নাস্তিক’ কিংবা
‘সেকুলার’ (ধর্মহীন) রাষ্ট্রে পরিণত হোক। এরা
আমাদের মুসলমানদের দেশ ও জনগণের শত্রু। আমাদের মুসলমানদের এমন ধর্মদ্রোহী লোকদের
ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিৎ, তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলকে সচেতন করে তোলা
উচিৎ। মানুষকে আস্তে আস্তে ঈমানহারা করে নাস্তিক বানানোর জন্যে কথিত এই সেকুলার
গোষ্ঠীর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্যে আমাদের মুসলমানদের কার্যকরী ভূমিকা
পালন করা উচিৎ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
