'হাকিমুল উম্মাত’ আশরাফ
আলী থানভী সাহেবের যৌন সমাচারঃ
‘বেহেশতী
জেওর’ উপমহাদেশের প্রখ্যাত দেওবন্দী আলেম আশরাফ আলী
থানভী সাহেবের লিখিত একটি বিখ্যাত কিতাব। বাংলাদেশের এমন কোন মানুষ খুজে পাওয়া
মুশকিল, যে এই কিতাবের নাম শুনেনি। এমনকি খুজে দেখলে হয়তো
প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে এই কিতাব পাওয়া অবাস্তব কিছু নয়। বিয়ে-শাদীর মধ্যে এই বই
উপহার দেয়াটা একটা রেওয়াজে পরিনত হয়ে গেছে। এমনকি বিবাহ যোগ্য নারী ও সদ্য বিবাহিত
নারীদেরকে এই কিতাব পাঠ করতে উৎসাহ দেয়া হয়। আর কেনই বা হবে না, মূলত এই কিতাব লেখাই হয়েছে নারীদের সংশোধনের জন্য।
হযরত মাওলানা
শামসুল হক ফরিদপুরী অনুবাদের ভূমিকায় বলেনঃ ''বেহেশতী জেওর একখানা বিশেষ
জরুরি কিতাব। সমগ্র পাক-ভারতের কোনো ঘর বোধ হয় বেহেশতী জেওর হইতে খালি নাই এবং এমন
মুসলমান হয়তো খুব বিরল, যে বেহেশতী জেওরের নাম শুনে নাই।
বেহেশতী জেওর আসলে লেখা হইয়াছিল শুধু স্ত্রীলোকদের জন্য। কিন্তু কিতাব খানা এতো
সর্বাঙ্গীণ সুন্দর ও এতো ব্যাপক হইয়াছে যে, পুরুষেরা এমনকি
আলেমগণও এই কিতাবখানা হইতে অনেক কিছু শিক্ষা পাইতেছেন’’
আমরা অত্র কিতাব
অধ্যায়ন করে দেখেছি যে, এই কিতাবে এমন কিছু বিষয়ের অবতারনা করা হয়েছে
যে, কোনো নারী তো দূরে থাক সর্বসাধারনও এগুলো পাঠ করতে
লজ্জায় কুঁকড়ে যাবে। যৌনতার রগরগে বর্ণনা, পুরুষের যৌনাঙ্গ
লৌহ দণ্ডের ন্যায় মোটা-তাজাকরনের অদ্ভুত পদ্বতি, মহিলাদের
লজ্জাস্থান ছোট-টাইট করনের আজগুবি পদ্বতি বর্ণনা ইত্যাদি দ্বারা কিতাবটি ভরপুর।
যৌনতার এমন রগরগে বর্ণনা ইসলামী শিক্ষার নামেই চালানো হচ্ছে।
গরুর লিঙ্গ, কুকুরের
লিঙ্গ, মোরগের কোষ, ছাগলের অণ্ডকোষ
ইত্যাদির মাধ্যমে থানভী সাহেব যৌনতার যেভাবে বর্ণনা দিয়েছেন তা উল্লেখ করতেও
রুচিতে বাধে। নিতান্ত বাধ্য হয়ে কয়েকজন মাযহাবী ভাইদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা
এই বিষয়ে কলম ধরলাম। নিম্নে আমরা থানভী সাহেবের যৌন বিকৃতির নমুনা উল্লেখ করা হলঃ
1) ‘’এঁড়ে গরুর
লিঙ্গ সুরমার ন্যায় মিহিন করিবে। মধু মিশ্রিত করিয়া উহা সঙ্গমের কিছুক্ষন পূর্বে
সেবন করিবে। ইহাতে নিস্তেজ লিঙ্গেরও পুনরুত্থান হইবে’’ বেহেশতী
জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৭
# আমাদের বক্তব্যঃ যে
সে গরুর লিঙ্গ দিয়ে হবে না! এঁড়ে গরুর লিঙ্গ ভক্ষন করতে হবে!
=============
2) ‘’কুকুরের
লিঙ্গ কাটিয়া লইবে। সঙ্গমের পূর্বে উরুতে বাধিবে। ইহাতে রতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। উহা
উরুতে বাঁধা থাকাকালীন লিঙ্গ নিস্তেজ হইবে না, কামাগ্নি প্রজ্জলিত থাকিবে’’ বেহেশতী
জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৭
# আমাদের বক্তব্যঃ
কুকুরের লিঙ্গ উরুতে বাঁধার সাথে এগুলোর কি সম্পর্ক! এছাড়া আর কিছুই বলার নেই!
=============
3) ‘’মোরগের
কোষদ্বয় শুকাইয়া চূর্ণ করিবে। উহার সহিত ‘মিলহে হায়দারানী’ মিশ্রিত
করিবে। মধুসহ মৃদু অগ্নিতে জ্বাল দিবে। খুব গাঢ় হইলে নামাইয়া ছানিয়া লইবে। ছোট ছোট
বটিকা প্রস্তুত করিয়া রাখিবে। রমণীগমনের পূর্বে মুখে একটি বটী ধারন করিলে কামাগ্নি
অত্যন্ত বৃদ্ধি পাইবে। উহা মুখ হইতে যতক্ষন বাহির না করিবে ততক্ষন পরম আনন্দ উপভোগ
করিবে। উহা আমীর-উমারাদের গুপ্তধনও বটে’’ বেহেশতী
জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৭-৩৭৮
# আমাদের বক্তব্যঃ চুপ
থাকাই শ্রেয় মনে করি।
==========================
4) ‘’কিঞ্চিত
পিপুল চূর্ণ ও লবনের সহিত ছাগলের অণ্ডকোষ ঘৃতে ভাজিয়া খাইলে রতিশক্তি বৃদ্ধি পায়’’ বেহেশতী
জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৬
# আমাদের বক্তব্যঃ
এখানেও আমরা মৌনতা অবলম্বন করলাম।
=================
5) ‘’কুকুরের
সঙ্গমকালে যখন মজবুতভাবে লাগিয়া যায় তখন সাবধানতার সহিত কুকুরের লেজ জড় থেকে
কাটিয়া লইবে। ৪০ দিন (অর্থাৎ এক চিল্লা!) উহা মাটির নীচে গাড়িয়া রাখিবে। অতঃপর
মাটি হইতে বাহির করিবে এবং সুতায় গাঁথিয়া কোমরে ধারন করিবে। যতক্ষণ উহা কোমরে
থাকিবে ততক্ষন বীর্যপাত হইবে না’’ বেহেশতী জেওর পৃষ্ঠা
নঃ ৩৭৮
# আমাদের বক্তব্যঃ
এখানে আর চুপ থাকতে পারলাম না। হে সম্মানিত পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, একটি জীবিত কুকুরকে তার সঙ্গমকালীন অবস্থায় একদম গোঁড়া হতে লেজ কেটে
নেয়া!!! অতঃপর সেটাকে এক চিল্লা অর্থাৎ চল্লিশ দিন মাটির নীচে দাফন করে রাখা!
অতঃপর তাবিজের মতো কোমরে ধারন করে...............!
আমাদের ভাগ্য ভালো
যে, থানভী সাহেব কুকুরের লেজের কথা বলেছেন, বাঘের লেজের
কথা বলেননি!!!
=========
সুত্রঃ বেহেশতী
জেওর,
মুল-আশরাফ আলী থানভী; অনুবাদক, শামসুল হক ফরিদপুরী, প্রাক্তন প্রিন্সিপাল, জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া, লালবাগ, ঢাকা। এমদাদিয়া লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা। এপ্রিল ২০০৮ ই; দ্বিতীয় ভলিউম; নবম খণ্ড, চিকিৎসা অধ্যায়
পোস্ট লিখেছেন - Anisur Rahman