আমাদের সন্তানেরা মুসলমান থাকবেতো?
বর্তমান যুগে ইসলাম এবং মুসলিদের সাথে সবচাইতে
বেশি শত্রুতা পোষণকারী দুইটি দেশ হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা। গণতন্ত্রবাদী এবং ধর্ম
নিরপেক্ষতাবাদীদের দ্বারা পরিচালিত ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের এই দুইটি দেশ অনেক মুসলমান
দেশ সরাসরি আক্রমন করে হাজার হাজার নিরপরাধ মুসলিমদেরকে হত্যা করেছে। গত সপ্তাহেই ইংল্যান্ডের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ২০০৩ সালে মিথ্যা অভিযোগে ইরাক আক্রমন করে তেল সমৃদ্ধ
ধনী দেশটিকে ধ্বংস করে হাজার হাজার মুসলিম হত্যা করার জন্যে ক্ষমা চেয়েছে। এছাড়াও,
ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা অনেক আগে থেকেই সরাসরি বা গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম এবং
মুসলিমদের ক্ষতি করার জন্যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। যাই হোক, খোলাখুলি শত্রুতার পরেও
ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার মতো ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীরা
দাঁড়ি-টুপি এবং বোরখা পড়ে কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলোতে পড়াশোনা করতে পারছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে
কাজ করতে পারছে। ফ্রান্স, ইতালি এমন ২-১টা নরাধম দেশ ছাড়া, ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুরা
তাদের নিজেদের দেশে মুসলিমদের পোশাক নিষিদ্ধ
করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেনা। অথচ শতকরা ৮০ভাগ মুসলিম(!) দাবীদার বাংলাদেশে এখন বহু শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীরা বোরাখা পড়ে ক্লাস করতে পারছেনা, ছাত্রদের পাঞ্জাবী-টুপি
পড়ে ক্লাস করা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম বহিঃর্ভূতভাবে মুসলিম
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পোশাকের কারণে অপমান অপদস্থ ও ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে, অনৈতিকভাবে
পরীক্ষায় নাম্বার কম দেওয়া হচ্ছে এমনকি ফেইল করানো হচ্ছে। অথচ, বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীদের
দ্বারা প্রণীত ‘সংবিধানে’ সকল ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীনতা
রয়েছে। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টা, মুসলিম অধ্যুষিত দেশে মুসলিমরাই এখন বৈষম্যের
শিকার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি IUBAT নামে ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে
ছাত্রদের পাঞ্জাবী-টুপি এবং ছাত্রীদের বোরখা পড়ে ক্লাস করা ‘অফিসিয়ালি’(!) নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি তাদের প্রশাসন
এই পোশাক পরহিত অবস্থায় কাউকে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করার মতো
দুঃসাহস দেখিয়েছে।
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি তাদের
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে ইউনিফর্ম পোশাক পড়া বাধ্যতামূলক করে, তারা নির্দিষ্ট তাদের
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একটা নির্দিষ্ট পোশাক পড়তে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেখানে সাধারণত ড্রেসআপ গেটআপ
যার যার ব্যক্তিগত রুচির উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেখানে একটা নির্দিষ্ট ধর্মের
অনুসারীদের পোশাক যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে নিষিদ্ধ করা আইনত সম্পূর্ণ বেআইনী এবং
একটি উস্কানীমূলক ধৃষ্টতা। বর্তমানে কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলোতে অনেক ছেলে হাফ
প্যান্ট পড়ে, গিটার নিয়ে গান-বাজনা করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে, প্রাকাশ্যে বিড়ি-সিগারেট
ও নেশা করছে, মারামারি ও খুনাখুনি করছে, অনেক মেয়েরা বিজাতীয়দের অনুকরণে অর্ধনগ্ন
ও যৌন উত্তেজক পোশাক পড়ে পতিতাদের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত
ছাত্র-ছাত্রীরা নোংরামিতে লিপ্ত হয়ে ক্যাম্পাসগুলোকে কলুষিত করে ফেলছে – এইগুলো নিয়ে কোন বাঁধা-নিষেধ নেই, আর নিষিদ্ধ
করা হচ্ছে যারা এইগুলো থেকে পবিত্র থাকতে চায় তাদেরকে? আমরা IUBAT ভিসির এমন ধর্মবিদ্বেষী আচরণের তীব্র
নিন্দা জানাচ্ছি এবং সকল ছাত্র-ছাত্রী এবং গার্জিয়ানকে এ ব্যপারে এক হয়ে এর
বিরোধীতা করার জন্যে আহবান জানাচ্ছি। আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাই, মুসলিম
অধ্যুষিত দেশে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের
বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে।
সতর্কতাঃ
১/ বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীদের দ্বারা প্রণীত
‘সংবিধানে’ অনেক শিরক, কুফর এবং ইসলাম বিরোধী কথা লিখা
আছে। যেহেতু, সেখানে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া আছে যা,
বর্তমান লংঘন করা হচ্ছে, সেইজন্যে এই প্রসংগটা নিয়ে আসা হয়েছে।
২/ ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নারী ও পুরুষ
মিশ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীদের পড়াশোনা করা হারাম। জীবিকা প্রয়োজনের জন্যে পুরুষেরা
যদি এমন মিশ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়তে বাধ্য হয় তাহলে, নিজের চরিত্র এবং দ্বীনকে
হেফাজত করে চলতে পারলে সেখানে পড়া পুরুষদের জন্যে জায়েজ হবে। এই সমস্ত
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পড়ে কেউ যদি নাস্তিকতা, বিজাতীয় মতবাদে বিশ্বাসী হয়, বা ইসলাম
বিমুখ বেদ্বীন হয়ে উঠে, কিংবা জিনা-ব্যভিচার ও অন্যান্য হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে,
তাহলে সেটা কোন পুরুষের জন্যেও জায়েজ হবেনা।